দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যানজট ও রাস্তায় হকারের অব্যবস্থাপনাকে রাজধানী ঢাকার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রিকশা ও হকারের সংখ্যা বেড়ে রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনা অনেকটা অচল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সম্প্রতি দেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
সাক্ষাৎকারে মো. আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দীর্ঘদিন অনেকটা অবহেলিত অবস্থায় ছিল। প্রতিষ্ঠানটি কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছিল না। দায়িত্ব নেওয়ার পর সিটি করপোরেশনকে সক্রিয় ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই ছিল প্রথম অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে জনগণের দৈনন্দিন নাগরিক সেবা দ্রুত ও যথাযথভাবে নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নগরবাসীর মৌলিক নাগরিক সমস্যাগুলো সমাধানও অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশেষ করে মশার উপদ্রব, ড্রেনেজ সমস্যা, জলাবদ্ধতা ও সড়কবাতিসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা কমিয়ে আনতে কাজ করা হচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতিটি ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যাতে নগরবাসী এসব সেবার সুফল পান।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, দীর্ঘদিন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অনেকটা অভিভাবকহীন ও অকার্যকর অবস্থায় ছিল। এখন এটিকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে, কেন হচ্ছে এবং কীভাবে দ্রুত সমাধান করা যায়, সেসব বিষয়ে নজর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ঢাকার সব নাগরিক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য নগরবাসীরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে জনগণের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
নাগরিকদের অভিযোগ সরাসরি শুনতে এলাকাভিত্তিক গণশুনানির ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে মো. আব্দুস সালাম বলেন, সিটি করপোরেশন কার্যালয়েও যেকোনো নাগরিক এসে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন। পাশাপাশি একটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে নগরের যেকোনো সমস্যার কথা দ্রুত জানানো যায়। গণমাধ্যমে কোনো সমস্যা উঠে এলেও তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। তবে সব অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা সম্ভব হয় না।
ডিএসসিসি প্রশাসক হিসেবে কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে ‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলা কর্মপরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। শহর পরিষ্কার ও সবুজ রাখতে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।
যানজট ও হকার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো যানজট ও রাস্তায় হকারের অব্যবস্থাপনা। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর রিকশা ও হকারের সংখ্যা বেড়ে রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনা অনেকটাই অচল হয়ে পড়েছে। আমরা এ দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে একটি নিয়মের মধ্যে আনতে চাই।’
অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হকারদের ব্যবস্থাপনার পর অটোরিকশার বিষয়টিও রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে চারটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি জোনের অটোরিকশা নিজ নিজ জোনের মধ্যেই চলাচল করবে। এক জোনের অটোরিকশা অন্য জোনে যেতে পারবে না।
গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, গণপরিবহনকে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার মধ্যে আনতেই হবে। গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা না থাকাও ঢাকার যানজটের অন্যতম কারণ। তাই যেখানে-সেখানে বাস পার্কিং এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে হবে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘মশা কখনো পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।’ তবে মশা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি করা যাবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের কীটতত্ত্ববিদরা সব ধরনের ওষুধ ব্যবহারের অনুমতি দেন না। কারণ অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করলে পরিবেশ ও অন্যান্য উপকারী কীটপতঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিবেশও সুরক্ষিত রাখতে হবে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক কম। গত কয়েক মাস ধরে নিরলসভাবে কাজ করায় মশার উপদ্রব আগের তুলনায় কমেছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের পক্ষে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, এ জন্য নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে।
এমএম/